• বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

হাওরের কৃষকের কান্না থামার উপায় কী

হাওরের কৃষকের কান্না থামার উপায় কী

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

এবারেও অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা-জলাবদ্ধতায় হাওরের কয়েক জেলার কৃষকদের আধা-পাকা ধান তলিয়ে গেছে। সরকারি দপ্তর বলছে ৪২ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি। এক সুনামগঞ্জেই ৫০০ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা এই দুর্যোগের সময় মোটা অঙ্কের মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাননি। যে ধান তারা বাড়িতে তুলেছিলেন তা-ও অতিবৃষ্টির কারণে অনেকটাই শুকাতে পারেননি।  বন্যা-বৃষ্টি প্রাকৃতিক নিয়মে হবে– এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একে নিয়ন্ত্রণ করে মানুষ। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় এর প্রতিকারের কোনো পদক্ষেপ তো নেই, বরং তারা অতিমুনাফার লোভে প্রকৃতি ধ্বংস করে চলেছে। গাছ-পালা-বন উজাড় করে মুনাফা লাভের মেগা প্রকল্প তৈরি করে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের অতি প্রবাহ তৈরি করছে। গাছ-পালা কার্বন-ডাই-অক্সইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ছেড়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু সে বনই সাম্রাজ্যাবদীরা ধ্বংস করে চলেছে। প্রতিবছর সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল সরকারগুলো পরিবেশ রক্ষার নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সম্মেলন করছে। কিন্তু প্রতি বছরই কার্বন-ডাই-অক্সাইড কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিশ্ব জনগণের সাথে প্রতারণাস্বরূপ সম্মেলন শেষ করে।

সাম্রাজ্যবাদ, দালাল শাসকশ্রেণির প্রকৃতি ধ্বংসের প্রতিশোধে অতিবন্যা, অতিবৃষ্টি, খরার প্রভাব পড়ে কৃষক ও কৃষির উপর। ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ উজানে তাদের দেশে নদীতে বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পানি সন্ত্রাস করে। শুকনা মৌসুমে পানি আটকিয়ে বাংলাদেশের কৃষিতে সেচের সংকট তৈরি করে এবং বর্ষা মৌসুমে পানি ছেড়ে বন্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের দালাল শাসকশ্রেণিও অপরিকল্পিত রাস্তা, অবকাঠামো তৈরি করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভরাট হওয়া নদী-খাল-বিল খনন করে পানি সঠিকভাবে প্রবাহিত করার কোনো কার্যকরি পদ্ধক্ষেপ নেয় না। প্রতি বছর বঁাধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও বাঁধ টেকসই হয় না। সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি-লুটপাটে ঠাসা থাকে হাওরের বাঁধ। ফলে অতিবৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে, পাহাড়ি ঢলে ধানের ক্ষতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে তিন মাস সাহায্য দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সঠিকভাবে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করা হবে কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ জমির মালিকদের হিসাব থাকলেও প্রকৃত কৃষকদের হিসাব সরকারে নেই। উপরন্তু দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দলীয় গডফাদার-কেডারদের কারণে এতে প্রচুর দুর্নীতি হতে বাধ্য। ফলে এসব সাহায্যও প্রকৃত কৃষকদের হাতে কতটা পৌঁছাবে সেটা একটি প্রশ্ন। ভূমিহীন-দরিদ্র কৃষকরা আগেই মালিকদের টাকা পরিশোধ করে জমি লিজ নিয়েছেন। মহাজনি-এনজিও সুদী ঋণে চাষবাস করে হাওরের কৃষকেরা আজ সর্বস্বান্ত। প্রধানমন্ত্রীর আপাত সাহায্য কৃষকদের দুর্দশা লাগবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সুফল দেবে না।

মুনাফা লোভী সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা অটুট রেখে, দুর্নীতিবাজ প্রশাসন ও দলীয় গডফাদার-কেডারদের উপর নির্ভর করে, সাম্রাজ্যবাদী প্রেসক্রিপশনের প্রকৃতি ও কৃষক ধ্বংসকারী ‘উন্নয়ন’ চালিয়ে, কৃষিতে আধা-সামন্ততান্ত্রিক শোষণ-ব্যবস্থাগুলো বহাল রেখে প্রধানমন্ত্রীর বিচ্ছিন্ন খালকাটা কর্মসূচিতেও মানুষ সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কৃষকের মুক্তি হবে না। কৃষকের কান্না থামানোর উপায় এই ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ। বিশ্ব-জনগণের বিপ্লবী সংগ্রাম। তাহলেই প্রকৃতি ধ্বংসের মহযজ্ঞ থেকে পৃথিবী ও কৃষক মুক্তি পাবে।

হাওরের কৃষকের কান্না থামার উপায় কী

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

এবারেও অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা-জলাবদ্ধতায় হাওরের কয়েক জেলার কৃষকদের আধা-পাকা ধান তলিয়ে গেছে। সরকারি দপ্তর বলছে ৪২ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি। এক সুনামগঞ্জেই ৫০০ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা এই দুর্যোগের সময় মোটা অঙ্কের মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাননি। যে ধান তারা বাড়িতে তুলেছিলেন তা-ও অতিবৃষ্টির কারণে অনেকটাই শুকাতে পারেননি।  বন্যা-বৃষ্টি প্রাকৃতিক নিয়মে হবে– এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একে নিয়ন্ত্রণ করে মানুষ। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় এর প্রতিকারের কোনো পদক্ষেপ তো নেই, বরং তারা অতিমুনাফার লোভে প্রকৃতি ধ্বংস করে চলেছে। গাছ-পালা-বন উজাড় করে মুনাফা লাভের মেগা প্রকল্প তৈরি করে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের অতি প্রবাহ তৈরি করছে। গাছ-পালা কার্বন-ডাই-অক্সইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ছেড়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু সে বনই সাম্রাজ্যাবদীরা ধ্বংস করে চলেছে। প্রতিবছর সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল সরকারগুলো পরিবেশ রক্ষার নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সম্মেলন করছে। কিন্তু প্রতি বছরই কার্বন-ডাই-অক্সাইড কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিশ্ব জনগণের সাথে প্রতারণাস্বরূপ সম্মেলন শেষ করে।

সাম্রাজ্যবাদ, দালাল শাসকশ্রেণির প্রকৃতি ধ্বংসের প্রতিশোধে অতিবন্যা, অতিবৃষ্টি, খরার প্রভাব পড়ে কৃষক ও কৃষির উপর। ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ উজানে তাদের দেশে নদীতে বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পানি সন্ত্রাস করে। শুকনা মৌসুমে পানি আটকিয়ে বাংলাদেশের কৃষিতে সেচের সংকট তৈরি করে এবং বর্ষা মৌসুমে পানি ছেড়ে বন্যা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের দালাল শাসকশ্রেণিও অপরিকল্পিত রাস্তা, অবকাঠামো তৈরি করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভরাট হওয়া নদী-খাল-বিল খনন করে পানি সঠিকভাবে প্রবাহিত করার কোনো কার্যকরি পদ্ধক্ষেপ নেয় না। প্রতি বছর বঁাধ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও বাঁধ টেকসই হয় না। সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি-লুটপাটে ঠাসা থাকে হাওরের বাঁধ। ফলে অতিবৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে, পাহাড়ি ঢলে ধানের ক্ষতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে তিন মাস সাহায্য দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সঠিকভাবে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করা হবে কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ জমির মালিকদের হিসাব থাকলেও প্রকৃত কৃষকদের হিসাব সরকারে নেই। উপরন্তু দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দলীয় গডফাদার-কেডারদের কারণে এতে প্রচুর দুর্নীতি হতে বাধ্য। ফলে এসব সাহায্যও প্রকৃত কৃষকদের হাতে কতটা পৌঁছাবে সেটা একটি প্রশ্ন। ভূমিহীন-দরিদ্র কৃষকরা আগেই মালিকদের টাকা পরিশোধ করে জমি লিজ নিয়েছেন। মহাজনি-এনজিও সুদী ঋণে চাষবাস করে হাওরের কৃষকেরা আজ সর্বস্বান্ত। প্রধানমন্ত্রীর আপাত সাহায্য কৃষকদের দুর্দশা লাগবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সুফল দেবে না।

মুনাফা লোভী সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা অটুট রেখে, দুর্নীতিবাজ প্রশাসন ও দলীয় গডফাদার-কেডারদের উপর নির্ভর করে, সাম্রাজ্যবাদী প্রেসক্রিপশনের প্রকৃতি ও কৃষক ধ্বংসকারী ‘উন্নয়ন’ চালিয়ে, কৃষিতে আধা-সামন্ততান্ত্রিক শোষণ-ব্যবস্থাগুলো বহাল রেখে প্রধানমন্ত্রীর বিচ্ছিন্ন খালকাটা কর্মসূচিতেও মানুষ সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কৃষকের মুক্তি হবে না। কৃষকের কান্না থামানোর উপায় এই ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ। বিশ্ব-জনগণের বিপ্লবী সংগ্রাম। তাহলেই প্রকৃতি ধ্বংসের মহযজ্ঞ থেকে পৃথিবী ও কৃষক মুক্তি পাবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র